নিউজ ডেস্ক: বিএনপি ষড়যন্ত্রের নীলনকশা রচনা করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একের পর এক অসংলগ্ন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।

সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন‌। আলোচনা সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু একাডেমি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, তাদের ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মানে ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড। ফখরুল বলছেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার দ্বারা দেশ পরিচালিত হচ্ছে না’। বিএনপির মহাসচিব কি বলতে চায়? যখন তারা ক্ষমতায় থাকেন, তখন গণতন্ত্র কোথায় থাকে? তাদের সময় এ বাংলাদেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তারা দেশে জঙ্গিবাদের রাজত্ব কায়েম করেছিল। অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। দেশে হত্যার রাজনীতি করে বিএনপি কি প্রতিষ্ঠা করতে চায়? তারা গণতন্ত্র বলতে কি বুঝাতে চায়। আমরা মনে করি দেশে ৭ নভেম্বর হচ্ছে একটি কালো দিবস। এটি হত্যা দিবস। গণতন্ত্র মুক্তির জন্য বিএনপির কোনো অবদান নেই। এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যেসব নেতাকর্মীরা আত্মহুতি দিয়েছেন তারা সবাই আওয়ামী লীগের। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর আত্মহুতি দেওয়ার নজির বা ইতিহাস নেই।

তিনি বলেন, নূর হোসেন শুধু একটি নাম নয়, একটি ইতিহাস। এরশাদ সরকারের শাসনামলে গণতন্ত্রের মুক্তির লক্ষ্যে নূর হোসেন তার বুকে এবং পিঠে লিখেছিলেন ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। গণতন্ত্রের মুক্তির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করেছেন নূর হোসেন। এ রকম সাহসী একজন মানুষ আজকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তিনি তার জীবন উৎসর্গ করতে বিন্দুমাত্র উৎকণ্ঠা বোধ করেননি।

প্রতিমন্ত্রী মুরাদ বলেন, ‘তার (নূর হোসেনের) মৃত্যুর ১০ মিনিট আগে জিরো পয়েন্টে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ডেকে বলেছিলেন, ‘তুমি তোমার জামা পরো। সে তখন বলেছিলেন ‘আমার জীবন দিয়ে হলেও, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করবো। আমি রক্ত দিতে দ্বিধাবোধ করবো না। আপা আমাকে দোয়া করে দেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। ’

তিনি বলেন, নূর হোসেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নেমে ছিলেন। অবরুদ্ধ জনতাকে রক্ষা করার জন্য ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে শহীদ হন নূর হোসেন। তার হত্যার পরে ১১-১২ নভেম্বর সারাদেশে বিক্ষোভ ও হরতাল পালন করা হয়েছিল। নূর হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর সারাদেশে আন্দোলন এতই ত্বরান্বিত হয় যে, স্বৈরাচার এরশাদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বঙ্গবন্ধু একাডেমির সভাপতি মো. নাজমুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- সভাপতি বলরাম পোদ্দার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল মাহামুদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *